ডায়াবেটিস এখন ঘরে ঘরে।বিশেষকরে ৪০ উর্ধে পুরুষ মহিলাদের এ সমস্যা বেশি দেখা দিয়ে থাকে।আবার অনেক সময় বংশগত ভাবে ডায়াবেটিস হতে পারে।কিন্তু সঠিক জীবনযাপন মানলে এই রোগ হওয়া অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব। আজ আপনাদের জানাবো সেই ৮ টি নিয়ম, যা মানলেই আপনি সুস্থ্য থাকবেন দীর্ঘদিন।
![]() |
| ডায়াবেটিস প্রতিরোধে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ৮টি জরুরি পরিবর্তন |
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ৮টি জরুরি জীবনধারা পরিবর্তন
ডায়াবেটিস এখন শুধু একটি রোগ নয়, বরং একটি জীবনধারা–সম্পর্কিত সমস্যা। সঠিক সময়ে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিচে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো—
১️. খালি পেটে মিষ্টি খাবার পরিহার করুন
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে বিস্কুট, কেক, মিষ্টি চা বা চিনি দেওয়া পানীয় খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এটি ইনসুলিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর পরিবর্তে প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যেমন—সিদ্ধ ডিম, ডাল, ওটস, শাকসবজি বা ফল (পরিমিত) গ্রহণ করুন। এতে রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ে এবং শরীর সুস্থ থাকে।
২️. সাদা ভাতের পরিমাণ কমান
সাদা ভাত দ্রুত হজম হয় এবং দ্রুত রক্তে সুগার বাড়ায়। তাই দিনে একবেলা অল্প পরিমাণ সাদা ভাত খাওয়াই ভালো। অন্যবেলায় আটার রুটি, লাল চাল বা ব্রাউন রাইস গ্রহণ করুন। এগুলোতে ফাইবার বেশি থাকায় সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৩️. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বাধ্যতামূলক করুন
নিয়মিত brisk walking বা দ্রুত হাঁটা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং শরীরের অতিরিক্ত সুগার ব্যবহার করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।
৪️.রাত জাগা বন্ধ করুন
রাত জাগলে শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
৫️. চিনি ও সফট ড্রিঙ্ক সম্পূর্ণ বাদ দিন
চিনি, কোল্ড ড্রিঙ্ক, মোজো, এনার্জি ড্রিঙ্ক—এগুলো রক্তে শর্করা হঠাৎ অনেক বাড়িয়ে দেয়। এগুলো ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় শত্রু। তৃষ্ণা মেটাতে পানি, লেবু পানি (চিনি ছাড়া) বা ডাবের পানি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন।
৬️. বেশি করে শাকসবজি খান
শাকসবজি ডায়াবেটিস রোগীর জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে লাউ, করলা, ঢেঁড়স, শসা, পেঁপে ইত্যাদি রক্তের শর্করা কমাতে সাহায্য করে। এগুলোতে ক্যালোরি কম ও ফাইবার বেশি থাকায় হজম ভালো হয়।
৭️. মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস হলে শরীর বেশি পরিমাণে সুগার রিলিজ করে। ফলে রক্তে শর্করা বেড়ে যায়। নিয়মিত নামাজ, মেডিটেশন, দোয়া, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা হালকা ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৮️. প্রতি ৬ মাসে একবার সুগার টেস্ট করুন
ডায়াবেটিস অনেক সময় শুরুতে বোঝা যায় না। নিয়মিত ৬ মাস অন্তর সুগার টেস্ট করলে আগেই সমস্যা ধরা পড়ে এবং বড় কোনো ক্ষতির আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
উপসংহার:
ডায়াবেটিস কোনো হঠাৎ হওয়া রোগ নয়—এটা গড়ে ওঠে আমাদের প্রতিদিনের ভুল অভ্যাস থেকে। খাবারে নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম আর মানসিক চাপ কমাতে পারলেই এই ভয়ংকর রোগ থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা যায়। আজ একটি ভালো অভ্যাস শুরু করলে ভবিষ্যতে ইনসুলিন আর ওষুধের ঝামেলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবে—এই সিদ্ধান্তটাই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় উপকার।
