চুল মানুষের সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বাস্থ্যজ্জল ও ঘন চুল শুধু বাহিরের সৌন্দর্য বাড়ায় না ভেতর থেকে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে কিন্তু বর্তমান সময়ে দূষণ, মানসিক চাপ, অপুষ্টি, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত কেমিক্যাল পণ্য ব্যবহারের কারণে অনেকেই চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন।
সঠিক যত্ন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই চুলপড়া অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চুল পড়া বন্ধে বালিশের ভূমিকা :
চুল পড়া বন্ধ করতে সিল্কের তৈরি বালিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতি কাপড়ের তৈরি বালিশের কাভারে আপনার চুল সারারাত পড়ে থাকে আর সুতির কাপড়ের বালিশের কাভার চুলের ময়েশ্চার শুষে নেয়।
তোয়ালের ব্যবহার :
চুল শুকানোর জন্য পরিষ্কার নরম কাপড় ব্যবহার করুন। সুতির বালিশের কাভারের মতোই তোয়ালেও চুলের ময়েশ্চার শুষে নিয়ে চুলকে শুষ্ক রুক্ষ ও প্রাণহীন ও ভঙ্গুর করে তোলে।
চুলের আগাছাটা :
প্রতি দেড় মাস পর পর চুলের আগা ছাঁটতে হবে কারণ দুমুখো চুল আপনার চুলের জন্য ক্ষতিকর। এই চুলের আগা না থাকলে চুলের আগা ফাটার পরিমাণ বাড়তেই থাকবে।
ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু :
চুলের যত্নে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন যে শ্যাম্পুতে ন্যাচারাল অয়েল থাকে। চুলের যত্নে কখনোই কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পুর ব্যবহার করবেন না। চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সব সময় হারবাল শ্যাম্পু ব্যবহার করাই নিরাপদ।
চুল পড়া বন্ধে ভেজা চুলের স্টাইল:
চুল ধৌত করার পর অবশ্যই ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। ভেজা চুল কখনোই বাধা ঠিক না এতে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চুল শুকানোর সঠিক পদ্ধতি :
চুল সবসময় বাতাসে শুকানোর চেষ্টা করতে হবে হেয়ার ড্রায়ারের মাধ্যমে চুল শুকালে চুল রুক্ষ হয়ে যায় কারণ হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাস আপনার চুলের জন্য ক্ষতিকর। Occasionally আপনি হেয়ার ড্রায়ার ইউজ করতে পারেন কিন্তু তার আগে চুলে হিট protecting স্প্রে দিয়ে নিতে হবে।
নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ :
চুলের গোড়া শক্ত রাখতে খাদ্য তালিকায় প্রোটিন,আয়রন, ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন : ডিম, মাছ ,শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন।
নিয়মিত তেল মেসেজ করুন :
সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল মাথার ত্বকে হালকা ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় । মাথার ত্বকে তেল লাগিয়ে ১ ঘন্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ।
প্রাকৃতিক হেয়ার প্যাক ব্যবহার :
চুলের পুষ্টি যোগাতে নিয়মিত ডিম ,দই, মধু বা মেথি দিয়ে তৈরি হেয়ারপ্যাক চুলে পুষ্টি যোগায় ।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন :
প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের পাশাপাশি চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
শেষ কথা :
নিয়মিত সঠিক যত্ন ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনই চুল পড়া কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় । সামান্য সচেতনতা আপনার চুলকে করতে পারে ঘন, মজবুত ও প্রাণবন্ত ।