ইতিহাস
![]() |
ইতিহাস |
কলেজের যাত্রার শুরুতে কেবলমাত্র আই-এ শ্রেণী চালুর অনুমতি পায়। শুরুতে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী ছিল কোন ছাত্রী ছিল না। প্রথম ব্যাচের ছাত্রদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া তারা হলেন মোজাম পাইকার, আমীর আলী, শফিকুর রহমান, আব্দুল মালেক নূরুল ইসলাম ভোলা প্রমুখ।১৯৪১ সালে কলেজের প্রথম ব্যাচের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় ১৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৭ জন পরীক্ষায় পাশ করে। এর মধ্যে প্রথম বিভাগে ০৮ জন, দ্বিতীয় বিভাগে ৬৪ জন এবং তৃতীয় বিভাগে ৩৫ জন পাশ করে। পাশের হার ছিল ৬৯.২%। অথচ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই হার ছিল ৬৩.৪%।
১৯৩৮ সালের ৪ এপ্রিল বগুড়ায় একটি আধুনিক ও মানসম্মত কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খাঁন বাহাদুর মোহাম্মদ আলীকে সভাপতি এবং মৌলভী আব্দুস সাত্তারকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি শক্তিশালী উদ্যোগী কমিটি গঠিত হয়, যেখানে সে সময়ের বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা ডা. হাবিবুর রহমান, পূর্ণচন্দ্র রায়, প্রজাবন্ধু রাজীব উদ্দীন তরফদারসহ তৎকালীন সমাজের বিশিষ্ট আরও অনেকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই কমিটির নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ১৯৩৯ সালের ৯ জুলাই কলেজটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। প্রথমদিকে প্রাথমিকভাবে ‘বগুড়া কলেজ’ নামে পরিচিত হলেও এই প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য স্যার আজিজুল হকের নামানুসারে নামকরণ করা হয়, যা এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ঐতিহ্য ও মর্যাদাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে কলেজটির পাঠদান কার্যক্রম বগুড়া শহরের উত্তর পাশে সুবিল ফ্রি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে পরিচালিত হয় এবং পরবর্তীতে ফুলবাড়ী বটতলায় স্থানান্তরিত করা হয়।অতি সাধারণ অবকাঠামো, এমনকি অল্প পরিসরে খড়-ছাওয়া ঘর দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের অবদানে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত বিকাশ লাভ করে।বিশেষ করে ফুলবাড়ীর ময়েন উদ্দিন প্রামাণিক ও রসিদুল্লাহ সরদারের জমি দান কলেজের স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৪১ সালে স্যার আজিজুল হকের উদ্যোগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করে, যা এর একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করে।
কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে আই.এ. শ্রেণীতে বাংলা (সাধারণ), বাংলা (দ্বিতীয় ভাষা), ইংরেজি (আবশ্যিক ও অতিরিক্ত), ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, যুক্তিবিদ্যা, পৌরনীতি, সাধারণ গণিত এবং আরবি/ফার্সি বিষয় পড়ানোর অনুমোদন প্রদান করা হয়।
প্রতিষ্ঠাকালে কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন— ইংরেজি বিষয়ে শ্রী কে. সি. চক্রবর্তী, বাংলা ও সংস্কৃত বিষয়ে শ্রী প্রভাত চন্দ্র সেন (এম.এ, বি.টি), আরবি ও ফার্সি বিষয়ে মোঃ আব্দুল গফুর, গণিতে শ্রী মনিন্দ্র চন্দ্র চাকী (এম.এ), ইতিহাসে শ্রী এস.পি. সেন (বি.এ সম্মান, লন্ডন), যুক্তিবিদ্যায় মোঃ ফজলুর রহমান (এম.এ) এবং পৌরনীতিতে মোঃ আকবর কবির (এম.এ)।
প্রতিষ্ঠার শুরুতে কলেজে কোনো ছাত্রী না থাকলেও ছাত্রী ভর্তিতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ১৯৪৩ সাল থেকে কলেজে ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে প্রথমদিকে ৮ থেকে ১২ জন ছাত্রী ভর্তি হন। পরবর্তীতে এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ছাত্রীরা সকালে ভি.এম. গার্লস স্কুলে ক্লাস করত। একই বছর কলেজে সহশিক্ষা চালু হলে এই সীমাবদ্ধতা দূর হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।এরপর ১৯৪৫-৪৬ শিক্ষাবর্ষ হতে কলেজটি বংলা এবং আরবী বিভাগে সম্মান ও আই.কম শ্রেণী চালুর অনুমতি লাভ করে।
কলেজটির প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন ড. এম.এম. মুখার্জি এবং প্রথম উপাধ্যক্ষ ছিলেন শ্রী এস.পি. সেন। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পূর্বে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২১৬টি কলেজের মধ্যে এটি অন্যতম ছিল এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে দ্রুত খ্যাতি অর্জন করে। প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে সেসময় কলেজে সম্মান শ্রেণী পরিত্যাক্ত হয়, এবং আই.এস.সি. শ্রেণী (পদার্থ, রসায়ন, অঙ্ক) চালুর অনুমতি পায়। আই.এস.সি. শ্রেণীতে বায়োলজি বিষয় অমত্মর্ভূক্ত হয় ১৯৪৮-৪৯ শিক্ষাবর্ষে। এর কিছুকাল পরে ১৯৫৪-৫৫ শিক্ষাবর্ষে কলেজটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হয় এবং আরবী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে তিন বছর মেয়াদী সম্মান শ্রেণী চালু করা হয়। সরকাররিকরনের পর কলেজে বাংলা, অর্থনীতি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে সম্মান পড়ানোর পাশাপাশি বি.এ,বি.কম, বি.এস.সি, আই.এ, আই.কম, আই.এস.সি চালু হয়।সময়ের সাথে সাথে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়।পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে ডা. হাবিবুর রহমানের উদ্যোগে প্রায় ৫৫ একর জমির ওপর কলেজটির নতুন ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানের প্রধান অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৬৮ সালের ১৫ এপ্রিল কলেজটি সরকারিকরণ করা হলে এর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়। বর্তমানে সরকারি আজিজুল হক কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধিভুক্ত একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, যেখানে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়।
১৯৭২-৭৩ সালে সম্মান কোর্সে বাংলা, ইহিতাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, অর্থনীতি, আরবি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, গণিত ও হিসাববিজ্ঞান চালু হয়। মাস্টার্স কোর্স অর্থনীতি, রাষ্ঠ্রবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান চালু করা হয়। ১৯৭৩-৭৪ সালে মাস্টার্স ও সম্মানে যথাক্রমে ৩১৭ ও ৬১৮ সহ মোট ৩,৭৮৭ জন ছাত্রছাত্রী ছিল। শিক্ষক ছিলেন ৯০ জন।
বর্তমানে কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় বিস্তৃত পাঠক্রম চালু রয়েছে এবং প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হয়ে তাদের শিক্ষাজীবন গড়ে তোলে। সুবিশাল ক্যাম্পাস, একাধিক একাডেমিক ভবন, গ্রন্থাগার, আবাসিক হল এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।।বর্তমানে সরকারি আজিজুল হক কলেজ উত্তরবঙ্গের শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, যা দীর্ঘ ইতিহাস, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং মানসম্মত শিক্ষার জন্য আজও শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে আই.এ. শ্রেণীতে বাংলা (সাধারণ), বাংলা (দ্বিতীয় ভাষা), ইংরেজি (আবশ্যিক ও অতিরিক্ত), ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, যুক্তিবিদ্যা, পৌরনীতি, সাধারণ গণিত এবং আরবি/ফার্সি বিষয় পড়ানোর অনুমোদন প্রদান করা হয়।
প্রতিষ্ঠাকালে কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন— ইংরেজি বিষয়ে শ্রী কে. সি. চক্রবর্তী, বাংলা ও সংস্কৃত বিষয়ে শ্রী প্রভাত চন্দ্র সেন (এম.এ, বি.টি), আরবি ও ফার্সি বিষয়ে মোঃ আব্দুল গফুর, গণিতে শ্রী মনিন্দ্র চন্দ্র চাকী (এম.এ), ইতিহাসে শ্রী এস.পি. সেন (বি.এ সম্মান, লন্ডন), যুক্তিবিদ্যায় মোঃ ফজলুর রহমান (এম.এ) এবং পৌরনীতিতে মোঃ আকবর কবির (এম.এ)।
প্রতিষ্ঠার শুরুতে কলেজে কোনো ছাত্রী না থাকলেও ছাত্রী ভর্তিতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ১৯৪৩ সাল থেকে কলেজে ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে প্রথমদিকে ৮ থেকে ১২ জন ছাত্রী ভর্তি হন। পরবর্তীতে এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ছাত্রীরা সকালে ভি.এম. গার্লস স্কুলে ক্লাস করত। একই বছর কলেজে সহশিক্ষা চালু হলে এই সীমাবদ্ধতা দূর হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।এরপর ১৯৪৫-৪৬ শিক্ষাবর্ষ হতে কলেজটি বংলা এবং আরবী বিভাগে সম্মান ও আই.কম শ্রেণী চালুর অনুমতি লাভ করে।
ঐতিহ্য ও শিক্ষার অগ্রযাত্রা
ছাত্রি নিবাস
গ্রন্থাগার
![]() |
গ্রন্থাগার |




.jpg)
.jpg)
.jpg)


.jpeg)
.jpeg)

