গ্রীষ্মকাল চলে এসেছে আর তাপমাত্রা দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। অত্যধিক গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে পাশাপাশি অতিরিক্ত ঘাম, মাথাব্যথা, পানিশূন্যতা এমনকি হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে তাই এই অত্যধিক গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা শুধু স্বস্তি নয় স্বাস্থ্যের জন্যও খুব জরুরী। কিছু খাবার অভ্যাস মেনে চললেই এই অত্যধিক গরমের মধ্যেও নিজেকে অনেকটাই সতেজ রাখা সম্ভব ।
খাবারে কি খাবেন ?
মৌরি ভেজানো পানি :
অত্যধিক গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এটি খুবই উপকারী একটি পানীয় । মৌরি ভেজানো পানি শরীরের তাপ কমাতে, হজম ভালো রাখতে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে অনেক কার্যকর । ঘরে খুব সহজেই এটি তৈরি করে নেয়া যায় । এক চা চামচ মৌরি এক গ্লাস পানিতে দিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন সকালে ছেকে নিয়ে সেই পানি খালি পেটে পান করুন
স্বাদের জন্য অল্প মধু বা কয়েকফোঁটা লেবুর রস যোগ করতে পারেন।
মুড়ি ভেজানো পানি :
একটি বাটিতে এক গ্লাস পানি নিয়ে তাতে পরিমাণমতো মুড়ি নিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন সকালে খালি পেটে ছেঁকে নিয়ে সেই পানি পান করুন । এটি আপনার শরীর অনেক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।
পুদিনা পাতার স্মুদি :
গরমের দিনের শরীর ঠান্ডা রাখতে পুদিনা পাতা ও লেবু দিয়ে তৈরি স্মুদি খুব সতেজ ও স্বাস্থ্যকর একটি পানীয়। এটি শরীরের ক্লান্তি দূর করতে গরমে স্বস্তি দিতে এবং হজম ভালো রাখতে সহায়তা করে।
এক গ্লাস পানি ,পুদিনা পাতা একমুঠো, এক টেবিল চামচ লেবুর রস মধু বা চিনি স্বাদ অনুযায়ী বড় ৩/৪ টি শসার স্লাইস ২/৩ টি ( optional )
সব উপকরণ ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন স্মোদি হয়ে গেলে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন ।
ডাবের পানি :
এটি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট ড্রিঙ্ক যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে তাই সপ্তাহে অন্তত ২/৩ দিন ডাবের পানি পান করুন।
কতিলা শরবত :
মিশ্রি ১৫০ গ্রাম, তিন গ্লাস পানি ,কতিলা ১০ গ্রাম ,আপনি এই কতিলা (যে কোন গ্ৰোসারি শপে পেয়ে যাবেন) ।
এখানে কতিলা আলাদা পাত্রে অল্প পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং মিশ্রি আলাদা পাত্রে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে সকালে কতিলা ও মিসরি ভেজানো পানি একসঙ্গে মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে । সপ্তাহে ৩/৪ দিন।
লেবু ও লবণের শরবত :
এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস এক চিমটি লবণ ও সামান্য মধু মিশিয়ে নিলে তা দ্রুত শরীরের ইলেকট্রোলাইট ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
তোকমা দানা :
এতে রয়েছে শরীর ঠান্ডা রাখার প্রাকৃতিক উপাদান এটি হজম শক্তিও বাড়ায় তোকমা দানা এক চা চামচ, এক গ্লাস পানি, এক টেবিল চামচ মধু বা চিনি, ১/২ চা চামচ, বরফ ২/৩ টি ।
একটি ছোট বাটিতে তোকমা দানা ১০ / ১৫ মিনিট পানিতে ভিজে রাখুন দানাগুলো ফুলে জেলীর মতো হয়ে গেলে একটি গ্লাসে ঠান্ডা পানি দিয়ে বাকি সব উপকরণ গুলো মিশিয়ে নিলেই হয়ে যাবে পারফেক্ট একগ্লাস তোকমা দানার শরবত ।
তরমুজ :
এটি এমন একটি ফল যার ৯২% ই তরল । এতে রয়েছে ভিটামিন এ ,সি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট । প্রতিদিন একবাটি করে তরমুজ অত্যধিক গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচাতে সহায়তা করে ।
শসা :
এতে পানি ও ফাইবার থাকে প্রচুর পরিমাণে তাই এই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত শসা খান ।
টমেটো :
গরমে নিয়মিত টমেটো খেলে অস্বস্তি কমবে অনেকটাই ।
টক দই :
টক দই যে শুধু হজমের সাহায্য করে তা কিন্তু নয় এটি গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতেও সহায়তা করে । এতে রয়েছে প্রবায়োটিক উপাদান যা গরমের সময় এসিডিটি সমস্যায় সাহায্য করে ।
অত্যাধিক গরমে যে কাজগুলো করবেন না :
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া , ডুবো তেলে ভাজা খাবার, অতিরিক্ত তেল মসলা ও শুকনো মরিচের রান্না করা খাবার এড়িয়ে চলুন। চা- কফির পরিবর্তে নিয়মিত এক গ্লাস ফলের শরবত বা লেবুর শরবত পান করুন ।
অতিরিক্ত টাইট- ফিটিং, মোটা এবং খসখসে, সিনথেটিক কাপড়, কালো রঙের কাপড় পরিধান করবেন না। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন । ঠান্ডা পানি খাবার প্রয়োজন হলে ৩ ভাগের ১ ভাগ ঠান্ডা পানি নিন এবং ২ ভাগ স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি মিশিয়ে পান করুন ।
অতিরিক্ত শরবত পান না করে বেশি করে পানি পান করুন।রান্না করা খাবারের চেয়ে সালাদ বেশি উপকারী ।
যে কাজগুলো করবেন :
- ঢিলেঢালা, সুতি ও হালকা রঙের কাপড় পরিধান করুন ।
- শরীরের যে স্থান বেশি ঘামে সেখানে পাউডার লাগান ।
- ত্বকে সানস্ক্রিন এপ্লাই করুন ।
- দুপুরে বাইরে যাবার প্রয়োজন হলে সানগ্লাস ও ছাতা ব্যবহার করুন ।
- প্রতিদিন ২ বার গোসল করুন তবে অবশ্যই মনে রাখবেন গোসলের সময় পানি প্রথমে গায়ে দেবেন তারপর মাথায় দেবেন ।
- দিনের বেলা ঘরের সব পর্দা টেনে রাখুন সরাসরি সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করে এমন স্থান বন্ধ করে রাখুন ।
- আপনার কপাল, ঘাড় বা কবজিতে ঠান্ডা কমপ্রেস বা ভেজা কাপড় লাগালে তাৎক্ষণিকভাবে আপনার ত্বকের তাপমাত্রা কমে যাবে ।
- ঠান্ডা জায়গায় ঘুমানোর চেষ্টা করুন ।
- শরীর ঠান্ডা রাখতে পান্তা ভাতও খেতে পারেন ।










