রোজা রাখার সময় অনেকের শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা এবং ঘুমের ঘাটতির কারণে এমনটা হয়ে থাকে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে রোজার মধ্যেও নিজেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব।
![]() |
| রোজায় ক্লান্তি ভাব দূর করতে যা করবেন |
রোজার দিনে ক্লান্তি এড়াতে সেহরিতে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া খুবই জরুরি। সেহরি হলো সারাদিনের শক্তির মূল ভরসা। তাই এমন খাবার খেতে হবে যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। ভাত বা রুটি, ডিম, ডাল, দুধ বা দই এবং ফল রাখতে পারেন। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ঝাল খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এসব খাবার শরীরে অস্বস্তি তৈরি করে এবং দ্রুত ক্লান্তি বাড়ায়।
পানিশূন্যতা রোজার সময় ক্লান্তির বড় একটি কারণ। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। একবারে বেশি পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার পান করলে শরীর ভালো থাকে। লেবু পানি বা ডাবের পানি পান করলেও শরীর সতেজ থাকে এবং পানির ঘাটতি কমে।
ইফতারের সময় খুব বেশি ভাজাপোড়া খাবার খেলে শরীর ভারী লাগে এবং অলসতা বাড়ে। তাই ইফতার শুরু করতে পারেন খেজুর ও পানি দিয়ে। এরপর ফল, ছোলা, স্যুপ বা হালকা খাবার গ্রহণ করলে শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায়। অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকলে হজম ভালো হয় এবং ক্লান্তিও কম হয়।
রোজায় পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাতে খুব দেরি করে ঘুমালে বা কম ঘুম হলে সারাদিন ক্লান্তি অনুভূত হয়। তাই নিয়মিত সময় মেনে ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে দিনে কিছু সময় বিশ্রাম নিলে শরীর ও মন দুটোই সতেজ থাকে।
হালকা হাঁটা বা ইফতারের পর সামান্য ব্যায়াম করলে শরীরে রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং ক্লান্তি কমে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কম রাখাও জরুরি। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা কাজের চাপ শরীরকে আরও অবসন্ন করে তোলে।
সবশেষে বলা যায়, রোজায় ক্লান্তি হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি ও ঘুম নিশ্চিত করলে সহজেই এই সমস্যা দূর করা যায়। সুস্থ ও সচেতন থাকলে রোজার মাসে ইবাদতের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজও সুন্দরভাবে করা সম্ভব।
