আমরা আমাদের ত্বকের যত্ন নিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম দামি প্রসাধনী ব্যবহার করি যেগুলোর ব্যয়ভার সবাই বহন করতে পারে না কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যেগুলো খুব সহজলভ্য এবং কার্যকর ।
তেমন একটি উপাদান হলো ফিটকিরি । এই ফিটকিরির মধ্যে থাকে প্রাকৃতিক অ্যাসট্রিনজেন্ট এবং এই উপাদানটি ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে । এটি আমাদের স্কিনের অতিরিক্ত সিবাম বা তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে দারুণ উপকার করে ।
এটি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বকের উপর জমে থাকা ডেড সেল বা মৃতকোষ সরিয়ে ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনতে দারুণভাবে সাহায্য করে । এটির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ এবং ব্রণের দাগ দূর করতে সহায়তা করে । এছাড়া ত্বকের প্রদাহ জনিত সমস্যা ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করতে খুবই কার্যকরী এই উপাদানটি।
ব্রণ ও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য :
ফিটকিরি গুঁড়ো করে সামান্য পানির সাথে মিশিয়ে ব্রণের উপর লাগালে ব্রণ দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া দূর হয় এটি ত্বকের অতিরিক্ত সিবাম বা তেল নিয়ন্ত্রণ করে ফলে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা কমে ।
আফটার শেভ :
শেভ বা ওয়াক্সিং করার পরে ত্বকে অনেক সময় জ্বালাপোড়া বা ছোট কাটা দাগ দেখা যায় সেই ক্ষতস্থানগুলোতে ফিটকিরি লাগালে জ্বালা কমে পাশাপাশি ত্বক দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে ।
বগলের দুর্গন্ধ দূর করে :
ফিটকিরির গুঁড়ো পানিতে মিশিয়ে বগলে ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঘাম এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া দূর হয় ।
দাগহীন ও টানটান ত্বক পেতে :
ফিটকিরির গুড়া ১ টেবিল চামচ, বেসন ১ টেবিল চামচ, নারিকেল তেল ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ১ চা চামচ এবং গোলাপ জল দিতে হবে পরিমাণ মতো । উপাদানগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে একটি সুন্দর মাস্ক তৈরি করে নিন আর এই ফেস মাস্কটি চোখের আশেপাশের এরিয়া বাদে পুরো ফেইসে লাগিয়ে রাখুন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য যখন মাস্কটি শুকিয়ে যাবে তখন হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ফেইস ধুয়ে ফেলুন এটি সপ্তাহে ২/৩ বার ব্যবহার করুন ।
এখানে উল্লেখ্য যে, লেবুর রস উপকারী হলেও তার সবধরনের ত্বকে সমানভাবে উপকার করে না । যেমন : শুষ্ক ত্বক, সেনসিটিভ স্কিন, ব্রণ প্রবণ ত্বক এবং যাদের স্ক্রিনে ক্ষত বা কাটা দাগ আছে আপনার স্কিনে এমন সমস্যা থাকলে এই মাস্ক তৈরি করার সময় লেবুর রস স্কিপ করবেন এছাড়াও মনে রাখবেন ত্বকে লেবুর রস ব্যবহারের পর সরাসরি রোদে যাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে আর যদি লেবুর রস ব্যবহার করতে চান তবে মাস্ক মুখের ত্বকে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে ।
সতর্কতা :
যদিও ফিটকিরি প্রাকৃতিক উপাদান তবুও এটির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে তাই ফিটকিরি ব্যবহারের পর অবশ্যই ফেইসে একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে ।যাদের ত্বক খুব সেনসিটিভ তারা ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নেবেন।
ফিটকিরি ব্যবহারের সময় কোনো ধরনের জ্বালা বা অসস্তি হলে এটি ব্যবহার বন্ধ রাখুন ।
সরাসরি ফিটকিরির টুকরো মুখে না ঘষে এর গুড়ো পানির সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন ।
শেষ কথা :
প্রকৃতির বহু সাধারণ জিনিসের মধ্যেই রয়েছে সৌন্দর্যের গোপন রহস্য , ফিটকিরি তেমনি একটি উপাদান। এটির সঠিক ব্যবহার ত্বকের যত্নে দারুন সহায়ক হতে পারে । এটির নিয়মিত ও পরিমিত ব্যবহার আপনার ত্বককে করবে আরো পরিষ্কার, উজ্জ্বল ও দাগহীন ।




