অলি ও আউলিয়া শব্দ দুটি আরবি ওলি একবচন যার অর্থ বন্ধু মুরুব্বি বা অভিভাবক আর আউলিয়া শব্দটি হচ্ছে বহুবচন পবিত্র কুরআন মাজিদে অনেক জায়গায় ওলি ও আউলিয়া শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে । তাদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে শুধু তাই নয় যেসব গুণের কল্যাণে একজন মানুষ অলিতে পরিণত হয় তাও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে ।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যার বন্ধু এবং অভিভাবক তিনিই ওলি ।
ইসলামে ওলীর মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ ।
পবিত্র কুরআনুল কারীমে ওলিদের ব্যাপারে বলা হয়েছে - সাবধান ! জেনে রেখো, যারা আল্লাহর বন্ধু; তাদের না কোন ভয়-ভীতি আছে আর না তারা চিন্তান্বিত হবে ।
সূরা ইউনুস : আয়াত ৬২
ইসলামের দৃষ্টিতে ওলির মর্যাদা :
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল্লার বন্ধু হওয়ার জন্য দুটি শর্ত আরোপ করেছেন একটি হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান বা বিশ্বাস স্থাপন করা আর দ্বিতীয়টি হল আল্লাহকে ভয় করা অর্থাৎ আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও অবাধ্যতা থেকে আত্মরক্ষা করে চলা । যারা আল্লাহর ওলী বা বন্ধু তাদের মর্যাদাও অনেক বেশি কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর বন্ধু হয়ে যায় আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির হয়ে যায় এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে- যে আমার কোন অলির সাথে শত্রুতা করে আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি -সহিহ বুখারী।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা বলেন, যে আমার অলির সাথে দুশমনি করবে আমি তার সাথে যুদ্ধের ঘোষণা করেছি। আমার বান্দার ওপর আমি যা ফরয করেছি আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয় কোন বস্তু দ্বারা সে আমার নৈকট্য অর্জন করেনি। আমার বান্দা নফল দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে অবশেষে আমি তাকে মহব্বত করি। আমি যখন তাকে মহব্বত করি আমি তার কানে পরিণত হই যা দ্বারা সে শ্রবণ করে। তার চোখে পরিণত হই যা দ্বারা সে দেখে, তার হাতে পরিণত হই যা দ্বারা সে ধরে, তার পায়ে পরিণত হই যা দ্বারা সে হাঁটে। যদি সে আমার নিকট চায় আমি তাকে অবশ্যই দিব, যদি সে আমার নিকট পানাহ চায় আমি তাকে অবশ্যই পানাহ দিব। আমার করণীয় কোন কাজে আমি দ্বিধা করি না যেমন দ্বিধা করি মুমিনের নফসের সময়, সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আমি তার কষ্টকে অপছন্দ করি”। [বুখারি] হাদিসটি সহিহ।
আর যারা বন্ধুত্ব রাখবে আল্লাহর সাথে ,আল্লাহর রাসূলের সাথে এবং মুমিনদের সাথে, তাহলে তারা আল্লাহর দলভুক্ত হলো এবং নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই বিজয়ী ।
সূরা ইমরান : আয়াত ৬৮
এখানে আল্লাহর দলের নিদর্শন ও তাদের বিজয়ী হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আল্লাহর দল তাঁরাই যাঁরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মুমিনদের সাথে সম্পর্ক রাখে, আর ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান, কাফের ও মুশরিকদের সাথে ভালোবাসা ও অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখে না; যদিও তারা তাঁদের নিকটাত্মীয় হয়। যেমনটি সূরা মুজাদালার শেষে বলা হয়েছে যে, ‘‘যারা আল্লাহ ও পরকালের উপর বিশ্বাস রাখে, তাদেরকে তুমি এরূপ পাবে না যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করবে; যদিও তারা তাদের পিতা, ভাই ও আত্মীয়-স্বজনও হয়।’’ তারপর সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, এরা তো ওরাই, যাদের অন্তরে ঈমান বিদ্যমান এবং যাদেরকে আল্লাহ সাহায্য করেছেন এবং এদেরকেই আল্লাহ জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন আর এরাই হচ্ছে আল্লাহর দল। আর তারাই হবে সফলকাম।
তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই বেশি মর্যাদা সম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে বেশি মুত্তাকী ।
সূরা হুজুরাত :আয়াত 13
ওলিদের দোয়া আল্লাহ বিশেষভাবে কবুল করেন । ওলিরা মহান আল্লাহপাকের সাধারণ বান্দাদের জন্য আদর্শ ।
কিছু অলির মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক বিশেষ ক্ষমতা প্রকাশ করেন তবে তা অবশ্যই তাদের নিজস্ব ক্ষমতা নয় - সবকিছু মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটে ।
শেষ কথা :
ইসলামে ওলির মর্যাদা অনেক উঁচু কিন্তু এই মর্যাদা অর্জনের মূল চাবিকাঠি হল ঈমান ,তাকওয়া ও নেক আমল ।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে আল্লাহর পবিত্র কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন ।
মহান আল্লাহ তায়ালাকেই একমাত্র আশা- ভরসার কেন্দ্র হিসেবে গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন এবং আমাদেরকে শিরক, কুফর, বিদআত মুক্ত করে সঠিক আকিদা- বিশ্বাসে অটল থাকার তৌফিক দান করুন ।
আমীন
