আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড। এটি গলার সামনে অবস্থিত এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া (metabolism), শক্তি উৎপাদন, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পুষ্টির ঘাটতির কারণে অনেকেই আজকাল থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন।
থাইরয়েডের সমস্যাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয় ।
১. হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন উৎপাদন করে, তখন তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়।
সাধারণ লক্ষণ:
অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন বেড়ে যাওয়া, ঠান্ডা বেশি লাগা, চুল পড়া,ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া
এই সমস্যাটি সাধারণত মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে শরীরের নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
২. হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism)
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হরমোন উৎপাদন করে, তখন তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।
সাধারণ লক্ষণ:
দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘাম বেশি হওয়া, উদ্বেগ বা নার্ভাসনেস, ঘুমের সমস্যা, হাত কাঁপা
এই অবস্থায় শরীরের বিপাকক্রিয়া খুব দ্রুত হয়ে যায়, ফলে শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) এর জন্য উপকারী খাবার :
আয়োডিনযুক্ত লবণ :
থাইরয়েড রোগীরা যে লবণ গ্রহণ করেন তা হতে হবে আয়োডিনযুক্ত লবণ । এটি থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে ।
দুধ, দই, ডিম :
এগুলো প্রোটিন ও আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার ।
মাছ :
বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ যাতে রয়েছে আইডিন ও সেলিনিয়াম ।
বাদাম :
বিশেষ করে ব্রাজিল নাট্স, কাজু, আখরোট এগুলোতে রয়েছে সেলেনিয়াম ও জিংক ।
সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার :
এই খাবারগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে ।
এই খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে : পালং শাক, গাজর, শিম ও বরবটি ,লাউ ,মিষ্টি কুমড়া, ব্রকলি ,মসুর ডাল, ছোলা ,আপেল ইত্যাদি ।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট :
এই সমস্যায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে । যেমন :অলিভ অয়েল ,নারিকেল তেল (সীমিত পরিমাণে)।
পর্যাপ্ত পানি :
থাইরয়েড রোগীদের পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত যা শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে ।
হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism) এর জন্য উপকারী খাবার :
ক্রুসিফেরাস সবজি :
এর মধ্যে রয়েছে বাঁধাকপি, ব্রকলি, ফুলকপি এগুলো থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন কিছুটা কমাতে সাহায্য করে ।
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার :
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে দুধ ও বাদাম যা হাড়ের ক্ষয় রোধে সহায়তা করে।
Whole grain :
পুরো শস্য খাবারগুলোতে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন বি ,আয়রন, জিন্ক ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে যার শরীরের বিপক্ষে প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে সাহায্য করে তাই থাইরয়েড সমস্যা আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সঠিক পরিমাণে হোল গ্রেইন খাওয়া উপকারী । Whole grain খাবারগুলো হচ্ছে :
ওটস্, ব্রাউন রাইস, বার্লি, গমের আটা ইত্যাদি ।
থাইরয়েড রোগীদের জন্য হোল গ্রেইন উপকারী হলেও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। কারণ বেশি ফাইবার কখনো কখনো থাইরয়েডের ওষুধের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সুষম পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
স্ট্রেসরিলিফ সমৃদ্ধ খাবার :
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারে রয়েছে স্ট্রেস রিলিফ করার উপাদান । যেমন : বাদাম ।
শেষ কথা :
মনে রাখতে হবে, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কম রাখা—এই সবকিছুর সমন্বয়েই থাইরয়েডকে ভালো রাখা সম্ভব। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে অভ্যাসে পরিণত করাই হতে পারে সুস্থ থাকার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।
.jpeg)
.jpeg)