তীব্র গরমে সাধারণ মানুষ খুবই কষ্ট পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও নবজাতকরা বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই এই গরমে তাদের একটু বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
![]() |
শিশু ও নবজাতকের যত্ন এই গরমে |
গরমকালে শিশু ও নবজাতকের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি, কারণ এ সময় ডিহাইড্রেশন, হিট র্যাশ, এমনকি হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এখানে কিছু কার্যকর পরামর্শ দেওয়া হলো –
১. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
-
শিশুকে সবসময় ঠাণ্ডা, বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে রাখুন।
-
সরাসরি সূর্যালোক বা গরম বাতাস থেকে দূরে রাখুন।
-
এসি বা ফ্যান ব্যবহার করলে সরাসরি শিশুর উপর না পড়ে, হালকা বাতাসে ঘর ঠাণ্ডা রাখুন।
২. পোশাক নির্বাচন
-
হালকা, সুতির এবং ঢিলা পোশাক পরান।
-
গাঢ় রঙের বা মোটা কাপড় এড়িয়ে চলুন।
৩. হাইড্রেশন (শরীরে পানির ভারসাম্য রাখা)
-
বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুকে বেশি ঘন ঘন বুকের দুধ দিন।
-
বড় বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পানি, ফলের রস বা ওরস্যালাইন দিন, যাতে ডিহাইড্রেশন না হয়।
৪. ত্বকের যত্ন
-
শিশুর ত্বক শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন।
-
হিট র্যাশ হলে বেবি পাউডার বা ডাক্তারের পরামর্শে মেডিকেটেড লোশন ব্যবহার করুন।
-
ঘন ঘন গরম পানিতে স্নান না করিয়ে হালকা কুসুম গরম পানিতে স্নান করান।
৫. বাইরে বের হওয়া
-
দুপুরের তীব্র রোদে শিশুকে বাইরে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
-
বাইরে গেলে ছাতা, হালকা ক্যাপ বা পাতলা কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন।
৬. স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ
-
বাচ্চার প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, অতিরিক্ত কান্না করলে বা অস্বাভাবিক ঘুমালে সতর্ক হোন—এগুলো ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।
-
জ্বর, বমি, ডায়রিয়া বা ঘাম না হওয়া—এসব হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
পানিশূন্যতার কারণে শিশুর গরমকালে জ্বর হতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে প্রথমে তাকে আর্দ্র করার চেষ্টা করতে হবে।তাপমাত্রা কোনোভাবেই না কমলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
শিশুর গায়ের তাপমাত্রা বাড়লে, র্যাশ, জ্বলুনি বা ছয় ঘন্টার বেশি সময় খাবারে অনিহা দেখা দিলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।